নামজারি (Mutation) হলো রাজউক কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্লট/ফ্ল্যাট হস্তান্তর, বিক্রয় অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকের নাম সরকারী ও রাজউক-এর রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া।

v কেন  নামজারি (Mutation) প্রয়োজন
ü  নতুন মালিককে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া।
ü  জমি/প্লট/ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো।
ü  খাজনা/ট্যাক্স প্রদান ও দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন।
ü  ব্যাংক লোন, হস্তান্তর বা অন্য যেকোনো আইনি কাজে মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।

v নামজারি (Mutation) করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ü  রাজউক-এর বরাদ্দপত্র (Allotment Letter)।
ü  হস্তান্তর/বিক্রয়/উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বৈধ দলিল।
ü  আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
ü  খাজনা/ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ (যদি প্রযোজ্য হয়)
ü  পূর্ববর্তী মালিকের নামীয় নথি।
ü  আদালতের সনদ (উত্তরাধিকার সূত্রে হলে)।
ü  অন্যান্য রাজউক নির্ধারিত কাগজপত্র।

v নামজারি (Mutation) করার ধাপসমূহ
ü  আবেদন জমা দেওয়া – রাজউক নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
ü  প্রাথমিক যাচাই – জমা দেওয়া কাগজপত্র রাজউক কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে।
ü  ফি জমা – নির্ধারিত Mutation Fee ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
ü  সার্ভে/ভেরিফিকেশন (যদি প্রয়োজন হয়) – রাজউক/AC Land অফিস জমি বা ফ্ল্যাটের অবস্থা যাচাই করতে পারে।
ü  মালিকানা হালনাগাদ – যাচাই শেষে নতুন মালিকের নামে রেকর্ড হালনাগাদ করা হবে।
ü   Mutation Certificate প্রদান – চূড়ান্তভাবে নামজারির সনদ প্রদান করা হবে।

v নামজারি (Mutation) করার উপায়
ü   অনলাইন (RAJUK EPMS পোর্টাল) https://epms.rajuk.gov.bd/  এর মাধ্যমে নামজারির আবেদন সম্পন্ন এবং আবেদন ট্র্যাকিং এর জন্য ইউজার ম্যানুয়াল এবং ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখুন

নামজারী আবেদন ফি:

আবেদন জমা দেয়ার সময় কোন ফি প্রয়োজন হয় না। আবেদনটি রাজউক কর্তৃক যাচাই বাছাই করার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধের জন্য সিস্টেমের মাধ্যমে নোটিফিকেশন দিবে। তারপর নামজারী ফি বাবদ ১০,০০০/= (দশ হাজার) টাকা সাথে ১৫% ভ্যাট সহ পরিশোধ করতে হবে।

আম-মোক্তারনামা/ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (POA)

আম-মোক্তারনামা/ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (POA) হলো একটি আইনি ক্ষমতা, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (প্রতিনিধি) অন্য একজনের (মূল মালিক বা প্রিন্সিপাল) পক্ষে রাজউক সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (POA)-এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা নিম্নরূপ :

সীমাবদ্ধতা

Ø  আইনি সীমা:
এজেন্ট POA-তে উল্লেখিত পরিধির বাইরে কোনো কাজ করতে পারে না।
উদাহরণ: কেবল নথি জমা দেওয়ার জন্য দেওয়া POA দিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না, যদি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে।

Ø  মূল মালিকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত:
এজেন্ট মূল মালিকের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন এমন ব্যক্তিগত বা বিবেচনামূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, যেমন অন্যান্য চুক্তি স্বাক্ষর করা।

Ø  মেয়াদ ও প্রত্যাহার:
POA মূল মালিক দ্বারা প্রত্যাহার করা হলে বা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলে বৈধ থাকবে না।
মূল মালিকের মৃত্যু হলে POA স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যায়।

Ø   অবৈধ কাজ:
এজেন্ট অবৈধ বা প্রতারণামূলক কাজ করতে পারবে না, যদিও POA তাতে অনুমোদন দিচ্ছে বলে মনে হয়।

Ø   নির্দিষ্ট লেনদেনের জন্য সীমাবদ্ধতা:
কিছু লেনদেন, যেমন সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধকী করা বা বড় আর্থিক লেনদেন, জন্য নির্দিষ্ট বা নিবন্ধিত POA প্রয়োজন, সাধারণ POA যথেষ্ট নয়।

Ø  প্রকৃত কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্যতা:
রাজউক বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষ POA অগ্রহণযোগ্য মনে করতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে নোটারি করা না হয়, নিবন্ধিত না হয়, বা স্পষ্টভাবে লেখা না থাকে।

আম-মোক্তার নামা /Power Of Attorney

  •     নিয়োগের ফি বাবদ কাঠা প্রতি টা : ৩০০০ * ২.৫ = ৭৫০০/- (ভ্যাট নেই )
  •     উন্নয়ন ফি কাঠা প্রতি ৩০ হাজার হারে টা : (৩০০০০ * ২.৫)= ৭৫০০০/- (ভ্যাট নেই )

              [ এখানে কাঠা=২.৫ উদাহরণ সরূপ দেওয়া হয়েছে। ]

রাজউকের প্রেক্ষিতে Transfer (হস্তান্তর) বলতে বোঝায় একজন বরাদ্দকৃত মালিক তার প্লট/ফ্ল্যাট অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করলে, সেই মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মালিকের নামে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়াকে। এটি মূলত বরাদ্দকৃত সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরের বৈধ স্বীকৃতি।

রাজউকে হস্তান্তরের (Transfer) প্রক্রিয়া
v আবেদন দাখিল
ü রাজউকের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে হস্তান্তরের আবেদন করতে হবে।
ü আবেদনকারীর সাথে নতুন ক্রেতার তথ্য প্রদান করতে হবে।
v প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
ü সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে
ü মূল বরাদ্দপত্র / লিজ দলিল
ü রাজউক কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র (NOC, যদি প্রযোজ্য হয়)
ü ক্রেতা-বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র
ü সর্বশেষ হোল্ডিং ট্যাক্স ও খাজনা প্রদানের রশিদ
ü হস্তান্তর ফি প্রদানের চালান
ü স্ট্যাম্প ও নন-জুডিশিয়াল কাগজে চুক্তিপত্র/অঙ্গীকারনামা
v ফি প্রদান
ü নির্ধারিত হারে হস্তান্তর ফি রাজউকে জমা দিতে হয়।
v দলিল যাচাই
ü রাজউক কর্তৃপক্ষ জমা দেওয়া দলিলপত্র, বরাদ্দপত্র এবং পূর্বের রেকর্ড মিলিয়ে দেখে।
ü কোনো বকেয়া বা আইনি জটিলতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে।
v অনুমোদন ও রেকর্ড হালনাগাদ
ü যাচাই-বাছাই শেষে রাজউক নতুন মালিককে অনুমোদন প্রদান করে।
ü রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
v হস্তান্তর সনদ প্রদান
ü হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজউক কর্তৃপক্ষ ক্রেতার নামে আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা স্বীকৃতি প্রদান করে।

টাকার পরিমাণ (Amount of Money) :

যোগ্য ঋণ দলিলে নির্দিষ্ট টাকার পরিমাণ অংকে ৬ কমায় উল্লেখ থাকে।

 প্রাপাকের নাম (Name of Payee) :

এরূপ দলিলে প্রাপকের নাম উল্লেখ থাকে। কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে আদেষ্টা 'নির্জা' শব্দ লিখতে পারেন। অঙ্গীকার পত্রের ক্ষেত্রে অঙ্গীকারদাতা কার নিকট অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তার নাম উল্লেখ করতে হয়।

মেয়াদ (Maturity):

বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্র সাধারণতঃ বিভিন্ন মেয়াদের হয় এবং দলিলে তা লেখা থাকে। এসব দলিল চাহিবামাত্র পরিশোধ্য ও হতে পারে। চেক চাহিবামাত্র পরিশোধ্য হয়ে থাকে।

উপস্থাপন (Presentation) :

হস্তান্তরযোগ্য বা দলিলের অর্থ আদায়ের জন্য ধারককে মেয়াদান্তে উপস্থাপন করতে হয়। মেয়াদী বিনিময় বিল অনিষ্টের নিকট প্রথমে স্বীকৃতির জন্য এবং মেয়াদান্তে পরিশোধের জন্য উপস্থাপন করা হ্যা তেকের অর্থ সপ্তাহের জন্য ব্যাংকে এবং অধীকার পত্রের ক্ষেত্রে মেয়াদান্তে প্রতিশ্রুতিদাতার নিকট উপস্থাপন করতে হয়।

ঋণের প্রমাণ (Proof of Debt) :

সকল প্রকার হস্তান্তরযোগ্য দলিল ১৮৮১ সালের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয় বলে আদালতে ঋণের দলিল হিসাবে গৃহীত হয়।

NOC (No Objection Certificate) হলো RAJUK কর্তৃক প্রদত্ত একটি অনুমোদনপত্র, যা প্রমাণ করে যে উক্ত প্লট/ফ্ল্যাট/প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজ যেমন হস্তান্তর, নামজারি, দলিল রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, ভবন নির্মাণ বা অন্য কোনো আইনানুগ কার্যক্রম সম্পাদনে রাজউকের কোনো আপত্তি নেই।

যে সব ক্ষেত্রে রাজউক NOC দিয়ে থাকে

১. ব্যাংক ঋণ গ্রহণের জন্য (প্লট বা ফ্ল্যাট জামানত রাখতে হলে)
২. ভবন নির্মাণ অনুমোদন নিতে হলে
৩. দলিল হস্তান্তর বা নামজারি করতে হলে
৪. কোনো প্লট/ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে
৫. কোর্ট বা আইনি কাজে জমা দেওয়ার জন্য

NOC Fee – আনুমানিক কাঠামো

·       ব্যাংক ঋণের জন্য NOC (Mortgage Permission)
ফি: ৳ 5,000 – ৳ 20,000
নির্ভর করে: প্লট/ফ্ল্যাটের অবস্থান ও আকারের উপর

·       নির্মাণ অনুমোদনের জন্য NOC (Building Plan Approval)
ফি: ৳ 10,000 – ৳ 50,000
Commercial প্লট হলে ফি বেশি

·       হস্তান্তরের জন্য NOC (Sale / Transfer Permission)
ফি: ৳ 25,000 – ৳ 2,00,000+
গুলশান/বনানী/Commercial Plot এ বেশি চার্জ হয়

·       নামজারি / উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য NOC
ফি: ৳ 10,000 – ৳ 50,000
Mutation + Supporting NOC মিলিয়ে চার্জ ধরা হয়

·       আইনি / কোর্ট কেসে জমা দেওয়ার জন্য NOC
ফি: ৳ 5,000 – ৳ 15,000
সাধারণত নথি যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়

GPF Withdraw Process – জমাকৃত অর্থের ৭৫% উত্তোলন করা যায় – নিজের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করলেও সর্বোচ্চ ৪৮ কিস্তি এবং সর্বনিম্ন ১২ কিস্তিতে জমা করতে হয়। জিপিএফ সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক আর্থিক নিরাপত্তার অংশ হওয়ায় জমাকৃত অর্থ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও কর্মচারীর বয়স ৫২ হওয়ার পূর্বে এ অর্থ চূড়ান্ত বা অফেরৎযোগ্য উত্তোলন করা যায় না।

প্রথমে আপনাকে জিপিএফ স্লীপ সংগ্রহ করতে হবে। হিসাবরক্ষণ অফিস বা আইবাস++ হতে অনলাইনে এ জিপিএফ স্লিপ পাওয়া যাবে। তারপর নিজের লিংকে দেওয়ার ফরম পূরণ করে অফিস প্রধান বরাবর একটি দরখাস্ত লিখতে হবে। অফিস প্রধান জিপিএফ মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট আপনার ফরমটি ও জিপিএফ স্লিপটি ফরওয়ার্ড করবে। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এটি মঞ্জুরী আদেশ জারি করবে। মঞ্জুরী পত্র প্রাপ্তির পর আপনার দপ্তরের মাধ্যমে বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে পাশ করে টাকা তুলতে পারবেন।

নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যদি আপনার নিজ দপ্তর হয় তবে ফরওয়ার্ডিং পাঠাতে হবে না। জিপিএফ মঞ্জুরীকারী কর্তৃপক্ষ যদি আপনার নিজ অফিস হয় তাহলে অতিদ্রুত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। আরেকটি বিষয় ৫২ বছর বয়স না হলে ইচ্ছা করে যে, আপনি কিস্তি দিবেন না সে সুযোগনাই। ফেরতযোগ্য অর্থ কিস্তির মাধ্যমে জমা করা বাধ্যতামূলক। এক কিস্তি সুদ হিসেবে কর্তন করতে হবে। তার মানে আপনি যদি ৪৮ কিস্তি পরিশোধ করেন তবে আরও একটি কিস্তি অতিরিক্ত কর্তন করে মোট ৪৯ কিস্তি কর্তন করতে হবে।

 

৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (প্রবর্তনঃ ২০০৪ খ্রিঃ)

মূল্যমানঃ  ১,০০,০০০ টাকা; ২,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ ও ১০,০০,০০০ টাকা।

কোথায় পাওয়া যায়ঃজাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক শাখাসমূহ বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ এবং ডাকঘর থেকে ক্রয় ও নগদায়ন করা যায়।

মেয়াদঃ ৩ (তিন) বছর।

মুনাফার হারঃ

ক্রমিক নং

সঞ্চয় স্কিমের নাম

মেয়াদ (উত্তীর্ণ হইলে)

বিদ্যমান মুনাফার হার

ক্রমিক ১-৯ এ বর্ণিত সকল সঞ্চয় স্কিমে ক্রমপুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ:

১৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত

১৫,০০,০০১ টাকা হতে ৩০,০০,০০০

৩০,০০,০০১ টাকা হতে তদূর্ধ্ব

পুনঃনির্ধারিত মুনাফার হার (%)

02

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

১ম বছরান্তে

১০.০০%

১০.০০

৯.০৬

৮.১৫

২য় বছরান্তে

১০.৫০%

১০.৫০

৯.৫১

৮.৫৬

৩য় বছরান্তে

১১.০৪%

১১.০৪

১০.০০

৯.০০

 

 

মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়ন করলে উপরোক্ত ছকে উল্লেখিত হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হয়ে থাকলে তা মূল টাকা হতে কর্তন করে সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করা হবে।

মুনাফাঃউৎসে করঃ ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ৩-মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত সর্বমোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার উপর ৫% হারে এবং এর অধিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার উপর ১০% হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়।

যারা ক্রয় করতে পারবেনঃ সকল শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশী নাগরিক এবং অটিস্টিকদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/ অন্য যে কোন অটিস্টিক সহযোগি প্রতিষ্ঠান (যাদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অটিস্টিকদের সহায়তায় অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে) যা সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত।

ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমাঃ একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ অথবা যুগ্ম-নামে সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) লক্ষ টাকা।

অন্যান্য সুবিধাঃ

   (ক) ত্রৈমাসিকভিত্তিতে মুনাফা প্রদেয়।

   (খ) নমিনী নিয়োগ করা যায়।

   (গ) সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনী সাথে সাথেই সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে টাকা উত্তোলন করতে পারেন অথবা পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত যথারীতি প্রতি তিন (৩)মাস অন্তর মুনাফা উত্তোলন করতে পারেন।

লীজ দলিল
লিজ দলীল হলো লিখিত চুক্তি, যার মাধ্যমে রাজউক নিজেদের মালিকানাধীন জমি/সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দেন।এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এবং নথিভুক্ত হতে হবে।

লিজের মেয়াদ

সাধারণভাবে জমির ধরন ও উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়

      আবাসিক জমি: সাধারণত ২০–৩০ বছর

      বাণিজ্যিক/অফিস/ইন্ডাস্ট্রিয়াল জমি: ৩০–৯৯ বছর পর্যন্ত

      মেয়াদ শেষে লিজ নবায়ন বা জমি ফেরত দিতে হয়।

 লিজ দলীলের প্রধান বিষয়সমূহ
লিজ দলীলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

·       জমির বিবরণ ও ঠিকানা

·       লিজের মেয়াদ ও শর্তাবলী

·       লিজফি / ভাড়া (প্রারম্ভিক ও নবায়ন ফি)

·       লিজ সম্পর্কিত কর, ট্যাক্স ও অন্যান্য ফি

·       লিজকৃত জমিতে ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা ( উদাহরণ: আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, পার্কিং, ইত্যাদি)

·       মালিকানার অধিকার ও দায়িত্ব

·       লিজ বাতিল বা লঙ্ঘন সম্পর্কিত শর্ত

·       নবায়ন, হস্তান্তর বা বিক্রির শর্ত

 লিজ দলীল তৈরি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া

·       আবেদন জমা: রাজউক নির্ধারিত ফরমে জমি/প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হবে।

·       ফি এবং নথি যাচাই: জমি/প্রকল্প, আবেদনকারী এবং অর্থ প্রদান যাচাই করা হয়।

·       প্রস্তুত লিজ দলীল: রাজউক কর্তৃক শর্তাবলীসহ লিজ দলীল তৈরি করা হয়।

·       নথি স্বাক্ষর ও নিবন্ধন:
o   লিজ দলীল নিবন্ধন অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়।
o   নিবন্ধন ছাড়াই লিজ বৈধ নয়।

 লিজ নবায়ন / পরিবর্তন

মেয়াদ শেষের আগে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

নির্দিষ্ট ফি ও শর্ত অনুসারে নবায়ন করা হয়।

জমির ব্যবহার পরিবর্তন বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমতি নিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

লিজ দলীল হলো আইনি দলীল — দাপ্তরিক কপি সবসময় সংরক্ষণ করুন।

লিজ শর্ত লংঘন করলে লিজ বাতিল হতে পারে।

জমি বা স্থাপনা বিক্রি, উপহার বা হস্তান্তরের আগে রাজউকের অনুমতি আবশ্যক।

ভূমির লিজ পত্র দলিল 

মৌজা- কালিকাপুর

জমির পরিমান- ৩৩ (তেত্রিশ) শতাংশ

 

মূল্য- ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা

মেয়াদ- ০৩ (তিন) বছর 

প্রথম পক্ষের নাম- মোঃ রহিম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত রমজান আলী, মাতাঃ মৃত নুরজাহান বেগম, জন্ম তারিখঃ ১/৯/১৯৮১ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র- 39220963948302, ধর্মঃ ইসলাম, পেশাঃ কৃষিকার্য্য, গ্রামঃ কালিকাপুর, পোঃ দেওয়ানগঞ্জ, উপজেলাঃ দেওয়ানগঞ্জ, জেলাঃ জামালপুর৷ 

 

দ্বিতীয় পক্ষের নাম- মোঃ জামাল বেপারী, পিতাঃ মৃত কেতাব আলী, মাতাঃ মৃত ছালেহা বেগম, জন্ম তারিখঃ ৭/৩/১৯৬৮ ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র- 39220963948368, ধর্মঃ ইসলাম, পেশাঃ কৃষিকার্য্য, গ্রামঃ কালিকাপুর, পোঃ দেওয়ানগঞ্জ, উপজেলাঃ দেওয়ানগঞ্জ, জেলাঃ জামালপুর৷

 

     পরম করণাময় মহান সৃষ্টিকর্তার নামে ভূমি লীজ নামা চুক্তিপত্র দলিলের আইনানুগ বয়ান লেখা শুরু করিলাম৷ জেলাঃ জামালপুর, উপজেলাঃ দেওয়ানগঞ্জ এলাকাধীন মৌজাঃ কালিকাপুর মধ্যে আর এস- ২৯০ নং খতিয়ানে আর এস- ৭৬১ নং দাগে বাদশা আলী নামে ৪০ শতাংশ জমি রেকর্ডভূক্ত থাকা অবস্থা তাহার নিকট হইতে আমি বিগত ইংরেজি ৬/১২/১৯৯৯ তারিখে একখন্ড কবলা পত্র দলিল মূলে ৩৩ শতাংশ জমি খরিদ পূর্বক প্রাপ্ত হইয়া স্বত্ববান মালিক ও দখলকার আছি৷ 

আপনি দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য (কিংবা যদি পুকুর হয়ে থাকে তাতে মৎস্য চাষ করার জন্য ইত্যাদি কারনে লীজ প্রদান করা হয়) আমি প্রথম পক্ষের নিকট প্রস্তাব করিলে, আমার নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজনে আপনি দ্বিতীয় পক্ষের প্রস্তাবে রাজি হইয়া নিম্ন লিখিত স্বাক্ষীগণের মোকাবেলায় আপনি দ্বিতীয় পক্ষের নিকট হইতে নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা গ্রহণ করিয়া আমার স্বত্ব দখলীয় ৩৩ শতাংশ জমি অদ্য ২০/০৫/২০২২ ইং তারিখ হইতে আগামী তিন বৎসর মেয়াদে আপনার নিকট লীজ প্রদান করিয়া দখলাদি বুঝাইয়া দিয়া স্বীকার বা অঙ্গীকার করিতেছি যে, 

উক্ত জমি আপনি দ্বিতীয় পক্ষের নিকট লীজ থাকা কালিন আমি প্রথম পক্ষ অন্য কোথাও বিক্রয় বা হস্তান্তর করিতে পারিব না এমনকি আমি বা আমার কোন ওয়ারিশ কেহ কোন প্রকার দাবি দাওয়া করিতে পারিবে না৷ যদি কেহ দাবি করি বা কাহারো দ্বারা করাই তাহা আইনত অগ্রাহ্য হইবে ৷ মেয়াদ শেষে আপনি দ্বিতীয় পক্ষের দেওয়া সাকূল্য টাকা ফেরৎ প্রদান করিলে জমির সমস্ত দাবি দাওয়া ছাড়িয়া দিতে বাধ্য থাকিবেন ৷ এতদ্বার্থে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে আমি অত্র জমির লীজ চুক্তিপত্র দলিল লেখাইয়া সম্পাদন করিয়া দিলাম ৷ 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ প্রদান করে। সাধারণত লটারি, আবেদন যাচাই, অর্থ পরিশোধ এবং চূড়ান্ত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে এই বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিচে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সহজভাবে তুলে ধরা হলো।


ধাপ ১: প্রকল্প ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

রাজউক নতুন আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত উল্লেখ থাকে:

  • প্রকল্পের নাম
  • প্লটের ধরন ও আকার
  • আবেদন যোগ্যতা
  • আবেদন ফি
  • আবেদন জমাদানের সময়সীমা
  • লটারির তারিখ
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ

আবেদনকারী নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করবে (epms.rajuk.gov.bd) ওয়েবসাইট থেকে।

প্রয়োজনীয় তথ্য:

  • আবেদনকারীর নাম
  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
  • পেশা
  • মোবাইল নম্বর
  • ইমেইল (যদি থাকে)
  • পছন্দের প্লটের ধরন

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্তি

আবেদনপত্রের সঙ্গে সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়:

আবশ্যিক কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • নাগরিকত্ব সনদ (প্রয়োজনে)
  • আয় বা পেশাগত সনদ
  • আবেদন ফি জমার রসিদ

বিশেষ কোটা থাকলে

  • মুক্তিযোদ্ধা সনদ
  • সরকারি চাকরিজীবী সনদ
  • প্রবাসী সনদ
  • অন্যান্য প্রযোজ্য প্রমাণপত্র

ধাপ ৪: আবেদন জমা

পূর্ণাঙ্গ আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হয়।

জমা দেওয়ার মাধ্যম: epms.rajuk.gov.bd ওয়েবসাইট

  • অনলাইন সাবমিশন
  • সরাসরি রাজউক অফিসে

অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন বাতিল হতে পারে।

রাজউকের প্লট বরাদ্দের টাকা ও কিস্তির পরিমাণ প্রকল্প, প্লটের সাইজ (৩, ৫, ১০ কাঠা), লোকেশন এবং ক্যাটাগরিভেদে আলাদা হয়। সাধারণ নিয়মে বরাদ্দ পাওয়ার পর নিচের ধাপে টাকা দিতে হয়ঃ

সাধারণ কিস্তি পদ্ধতি

  1. আবেদন ফি — আবেদন জমার সময়
  2. প্রাথমিক বরাদ্দ মূল্য (Down Payment) — লটারিতে প্লট পাওয়ার পর
  3. বাকি টাকা কিস্তিতে — মাসিক/ত্রৈমাসিক কিস্তি
  4. লিজ/রেজিস্ট্রেশন ফি — শেষ পর্যায়ে

উদাহরণ (পূর্বাচল প্রকল্পের পুরোনো বরাদ্দ কাঠামো)

  • ৩ কাঠা প্লট → কয়েক লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট
  • ৫ কাঠা প্লট → মোট মূল্য কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে
  • ১০ কাঠা প্লট → লোকেশনভেদে আরও বেশি

সাধারণত:

  • ১০%–২৫% অগ্রিম দিতে হয়
  • বাকি টাকা ৩–৫ বছরে কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়
  • কিস্তি দেরি হলে জরিমানা লাগে

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত কিস্তি সুবিধা (বেসরকারি/রিসেল বিজ্ঞাপনে)

কিছু প্লট বিজ্ঞাপনে:

  • এককালীন ও কিস্তি দুই সুবিধাই আছে
  • ৩ কাঠা প্লট প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা থেকে শুরু এমন বিজ্ঞাপনও আছে
  • পূর্বাচলে ৫ কাঠা প্লটের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে

অফিশিয়াল রাজউক বরাদ্দে কিস্তির শিডিউল সাধারণত বরাদ্দপত্রে দেওয়া থাকে

দখল

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লট, ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক ইউনিটের দখল গ্রহণের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হয়। আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, বকেয়া পরিশোধ এবং যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার পর রাজউক দখল হস্তান্তর করে থাকে

রাজউকের দখল আবেদন করার ধাপসমূহ

ধাপ : বরাদ্দপত্র কাগজপত্র যাচাই

প্রথমে আবেদনকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে

  • প্লট/ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র (Allocation Letter) পাওয়া গেছে
  • সকল কিস্তি বা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে
  • লিজ ডিড/চুক্তিপত্র সম্পন্ন আছে (যদি প্রযোজ্য হয়)
  • নামজারি বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা নেই

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ঃ

  1. দখল আবেদনপত্র
  2. বরাদ্দপত্রের কপি
  3. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  4. সকল টাকা পরিশোধের রসিদ
  5. লিজ ডিড বা চুক্তিপত্রের কপি
  6. পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  7. ওয়ারিশ/পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত কাগজ (যদি প্রযোজ্য হয়)
  8. নাম সংশোধন/হস্তান্তর অনুমোদনের কপি (যদি থাকে)

ধাপ : অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন

অনলাইনের মাধ্যমে দখলের আবেদন করা যায়

  • ইউজার ম্যান্যুয়াল দেখে নিজে নিজে
  • রাজউক অফিসে হেল্প ডেস্ক থেকে সহায়তা নিয়ে
  • অনলাইন সেবা প্রদানকারী কম্পিউটার দোকান থেকে

রাজউকের অনলাইন ইপিএমএস ওয়েবসাইটঃ
epms.rajuk.gov.bd


ধাপ : অনলাইন ফরম পূরণ

ফরমে সাধারণত নিচের তথ্য দিতে হয়ঃ

  • আবেদনকারীর নাম
  • পিতা/মাতার নাম
  • বর্তমান ঠিকানা
  • মোবাইল নম্বর
  • বরাদ্দ নম্বর
  • প্লট/ফ্ল্যাট নম্বর
  • সেক্টর/ব্লক তথ্য
  • অর্থ পরিশোধের বিবরণ

সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ভুল তথ্য থাকলে আবেদন স্থগিত হতে পারে


ধাপ : মাঠ পর্যায়ে যাচাই পরিদর্শন

রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন যাচাই করেন এবং প্রয়োজন হলে

  • প্লট/ফ্ল্যাট পরিদর্শন করেন
  • নথিপত্র যাচাই করেন
  • বকেয়া বা আইনি জটিলতা আছে কিনা পরীক্ষা করেন

যদি কোনো সমস্যা পাওয়া যায়, আবেদনকারীকে তা সমাধানের জন্য অবহিত করা হয়


ধাপ : দখল অনুমোদন

সবকিছু সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দখল অনুমোদন প্রদান করে

এরপর

  • দখলপত্র (Possession Letter) ইস্যু করা হয়
  • আবেদনকারীকে দখল গ্রহণের তারিখ জানানো হয়

ধাপ : দখল হস্তান্তর

নির্ধারিত তারিখে আবেদনকারী উপস্থিত থেকে দখল গ্রহণ করেন

এই সময় সাধারণতঃ

  • সাইট বুঝিয়ে দেওয়া হয়
  • সীমানা নির্ধারণ করা হয়
  • দখল হস্তান্তর রেকর্ডে স্বাক্ষর নেওয়া হয়

দখল গ্রহণের পর আবেদনকারী আনুষ্ঠানিকভাবে প্লট/ফ্ল্যাটের ব্যবহারিক অধিকার লাভ করেন

 

আবেদন ফি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এরদখল আবেদনবলতে সাধারণত প্লট/ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেওয়ার আবেদনকে বোঝায় এই প্রক্রিয়ায় ফি প্রকল্পভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং অনেক সময় আলাদা সার্ভিস চার্জ, বকেয়া কিস্তি, ভ্যাট, ইউটিলিটি চার্জ ইত্যাদি যুক্ত হয় রাজউকের ওয়েবসাইটে সব প্রকল্পের জন্য একক নির্ধারিতদখল আবেদন ফিপ্রকাশিত নেই

তবে সাধারণভাবে নিচের খরচগুলো লাগতে পারে:

  • দখল আবেদন প্রসেসিং ফি(যদি কম্পিটারের দোকান থেকে করা হয়)
  • বকেয়া কিস্তি বা জমির মূল্য পরিশোধ
  • ইউটিলিটি সার্ভিস চার্জ
  • ভ্যাট/ট্যাক্স
  • নামজারি বা মিউটেশন ফি (যদি প্রয়োজন হয়)

রাজউকের অনলাইন নির্দেশিকায় নামজারি (Mutation) ফি সম্পর্কে বলা হয়েছে:

  • নামজারির আবেদন জমা দেওয়ার সময় কোনো ফি লাগে না।
  • যাচাই শেষে ১০,০০০ টাকা নামজারি ফি + ১৫% ভ্যাট দিতে হয়। অর্থাৎ মোট প্রায় ১১,৫০০ টাকা লাগে

১। ভূমিকা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর প্লট ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে Electronic Property Management System (EPMS) চালু করা হয়েছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীগণ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সেবা সম্পর্কে কোনো সমস্যা, অসন্তোষ, অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে অনলাইনে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

রাজউক EPMS-এর হোমপেজে “অভিযোগ” একটি পৃথক সেবা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

২। অভিযোগ সেবার উদ্দেশ্য

অভিযোগ সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারী—

  • রাজউকের কোনো সেবা সংক্রান্ত সমস্যা জানাতে পারবেন;
  • কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন;
  • সংশ্লিষ্ট আবেদনের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন;
  • অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করতে পারবেন;
  • প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র/সহায়ক নথি সংযুক্ত করতে পারবেন;
  • অনলাইনে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

৩। অভিযোগ দাখিলের পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

অভিযোগ দাখিলের পূর্বে নিম্নোক্ত তথ্য/নথি প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন হতে পারে—

১. সংশ্লিষ্ট সেবার নাম
২. সংশ্লিষ্ট আবেদনের ট্র্যাকিং নম্বর
৩. অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
৪. অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি/প্রমাণপত্র
৫. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আবেদন বা সেবার তথ্য

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভিযোগের বিবরণ যথাসম্ভব স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং তথ্যভিত্তিকভাবে প্রদান করতে হবে।


৪। অভিযোগ সেবায় প্রবেশ

ধাপ-১: EPMS পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমে রাজউক EPMS-এর ওয়েব পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর হোমপেজ থেকে “অভিযোগ” সেবা নির্বাচন করতে হবে।

৫। প্রয়োজনীয় ফাইল সংযুক্ত করা

অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র বা সহায়ক নথি সংযুক্ত করা যাবে।

“Add Files (Image/Audio/Video/PDF)” অংশে ফাইল সংযুক্ত করার সুবিধা রয়েছে।

ফাইল সংযুক্ত করার পদ্ধতি

১. “Browse” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
২. কম্পিউটার/ডিভাইস থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল নির্বাচন করতে হবে।
৩. নির্বাচিত ফাইল সিস্টেমে আপলোড হবে।
৪. প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক ফাইল সংযুক্ত করা যাবে।

৬। অভিযোগ সংরক্ষণ

ফরমের তথ্য পূরণ করার পর ব্যবহারকারীর জন্য “খসড়া হিসেবে সংরক্ষণ করুন” বাটন রয়েছে।

এই বাটনে ক্লিক করলে অভিযোগের তথ্য Draft/খসড়া হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে।

কখন খসড়া হিসেবে সংরক্ষণ করবেন?

যদি অভিযোগের তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত না থাকে অথবা পরবর্তীতে তথ্য সম্পাদনা করে দাখিল করতে চান, তাহলে “খসড়া হিসেবে সংরক্ষণ করুন” ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭। অভিযোগ দাখিল

অভিযোগের সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ এবং প্রয়োজনীয় ফাইল সংযুক্ত করার পর নিচের ডানদিকে থাকা “দাখিল করুন” বাটনে ক্লিক করতে হবে।